এশিয়ান ফুটবলের তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ফর্টিস এফসি। আজ কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ড্রয়ের মাধ্যমে গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ফর্টিসকে 'সি' গ্রুপে রাখা হয়েছে। এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ভারতের এফসি গোয়া। আইএসএলের ইতিহাসে সাফল্যের সঙ্গে খেলা এই ক্লাবটি ২০২১ সালে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। গত মৌসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুতে অংশ নেওয়া এফসি গোয়া এবার চ্যালেঞ্জ লিগে খেলবে।

গ্রুপের অন্য দুই দল হলো স্বাগতিক কুয়েতের কাদসিয়া এসসি এবং তাজিকিস্তানের রেগার তাজএজেড। আগামী ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর কুয়েতে এই গ্রুপের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে, আর রানার্সআপ দলের জন্য শেষ আটে ওঠার সুযোগ থাকবে সেরা রানার্সআপ হিসেবে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা একটি রানার্সআপ দল শেষ আটে যাবে। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দুই গ্রুপ থেকে চারটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

এর আগে ১১ আগস্ট ঢাকার কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত প্লে-অফ ম্যাচে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করেছিল ফর্টিস। গত মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল দলটি।

নতুন ঘরোয়া মৌসুমের জন্য আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে ফর্টিস। এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্লে-অফে মুরাসের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম। প্লে-অফের সময় আবাহনী থেকে এক মাসের ধারে খেলেছিলেন তিনি, তবে এবার পাকাপাকিভাবে ফর্টিসে যোগ দিয়েছেন। বাফুফের নিয়ম অনুযায়ী সাফ কোটায় সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখার সুযোগ রয়েছে। ফর্টিস এই সুযোগের পুরোটা ব্যবহার করেছে। গত মৌসুমের শ্রীলঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেইরাকে ধরে রাখা হয়েছে। বাকি দুইজন নেপালের জাতীয় দলের খেলোয়াড়—মিডফিল্ডার আরিক বিস্তা এবং ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং। আরিক বিস্তা চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফেও ফর্টিসের হয়ে খেলেছিলেন। ফর্টিসের এবারের মৌসুমে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে আরিক ও ইব্রাহিমকে।

ম্যাচ জেতানো গোলের নায়ক ইব্রাহিম বলেন, ‘মনে হয়েছে, বাংলাদেশের হয়ে খেলেছি।’