শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের দাপটে চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সোমবার দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় সেতুটি পারাপারের চেষ্টা করছিলেন একটি শিশু ও আরও দুই ব্যক্তি। তারা সবাই নদীর প্রবল স্রোতে ছিটকে পড়েন, তবে দ্রুত সাঁতার কেটে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় অবস্থিত সেতুটির বেশির ভাগ অংশ ভোর থেকেই পানিতে নিমজ্জিত ছিল। রাতভর ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের চাপে সেতুটি হেলে পড়ে এবং একপর্যায়ে পুরোপুরি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ আলী জানান, বিপজ্জনক অবস্থা দেখেও ওই তিনজন সেতুটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ করেই সেতুটি ভেঙে যায় এবং তারা পানিতে পড়ে যান। সৌভাগ্যক্রমে সবাই সাঁতার জানতেন, ফলে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অপর এক স্থানীয় কৃষক আমানউল্লাহ বলেন, সকাল থেকেই সেতুটি নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় সেতুর সুরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং এখন দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে, রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছাতে ও কৃষকের ফসল বাজারে আনতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে কষ্টসাধ্য করে তুলেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ জানায়, নালিতাবাড়ীর বাঘবেড় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের যাতায়াতের সুবিধার্থে চেল্লাখালী নদীর ওপর ১২০ ফুট দীর্ঘ এই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের টিআর/কাবিখা কর্মসূচির অর্থায়নে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় এক দশক ধরে এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল এই সেতু। এখন প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আলীর বাজার, রানীগাঁও, চেল্লাখালী বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য এই পথ ব্যবহার করতেন, যা এখন সম্পূর্ণ অচল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে নির্মিত এই বেইলি সেতুটি ছিল বেশ বড়। ভাঙনের সময় শিশুসহ তিনজন নদীতে পড়ে গেলেও তারা নিজেরাই নিরাপদ তীরে ফিরে আসতে পেরেছেন। এখন নদীর পানি কমার অপেক্ষা করা হচ্ছে। পানি কমলে সেতুটি সংস্কার অথবা বিকল্প কোনো পথ তৈরি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী সংযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের ভোগান্তি কমে।