লেভান্ডোফস্কি উত্তর যুগে বার্সেলোনার নবরূপে ৯ নম্বর জার্সিধারীর সন্ধান চলছেই। শুক্রবার ব্রামিংহামের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রীতিপ্রদর্শনে সেই কিংবদন্তি জার্সি গায়ে নতুন এক মুখকে দেখেছে ফুটবল বিশ্ব।
পোলিশ স্ট্রাইকার রবের্ত লেভেল্ডোফস্কি সফল চার মৌসুম শেষে বিনা ট্রান্সফার ফি'তে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেওয়ার পর লুইস সুয়ারেজ, স্যামুয়েল ইতো ও রোনালদো নাজারিওর মতো দিকপালদের পরিহিত এই জার্সিটি শূন্য ছিল। এই অভাবপূরণে জুলিয়ান আলভারেজ ও বোর্নেমুখের জুনিয়র ক্রৌপির পেছনে ছুটা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সফলতা মেলেনি। আলভারেজ পাঁচ বছরের সমঝোতায় আসতে রাজি হয়েছেন বলে খবর রটলেও তা কার্যকর হয়নি, অন্যদিকে ক্রুপি পায়ের অস্ত্রপচার করিয়ে তিন-চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে।
এ অবস্থায় ঘরের ভেতরেই সমাধান খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে ক্লাবটি। ১৮ বছরের মিশরীয় স্ট্রাইকার হামজা আবদেলকুরিম নিজেকে জোরালো দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। মিশরের আল আহলি ক্লাব থেকে মাত্র ১.৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে তাঁর ধারচুক্তি স্থায়ী করে বার্সেলোনা। মিশরের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানের ঠিক আগে এই তরুণ কাতালান্দেশে ফিরেই প্রিমিয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। প্রতি গ্রীষ্মের মতো রিজার্ভ ও লা মুলিয়ার একদল তারকা তরুণের সঙ্গে হান্সি ফ্লিকের দৃষ্টি আকর্ষণের সুযোগ পেয়ে হামজা সেটির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।
সেন্ট অ্যাণ্ড্রুজ স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচটি ছিল হামজার প্রতিভার মঞ্চ। নির্ধারিত সময়ে দল ২-২ গোলে ড্র করলেও দুই গোলটিই আসে এই মিশরীয় কিশোরের কাছ থেকে। প্রথমটি পেনাল্টি, তবে দ্বিতীয় গোলটি ছিল শিকারী ফিনিশারের সহজাত উদাহরণ। রোনি বর্ধজির দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ফেরানোর পরই পুরো অবস্থান নিয়ে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি হামজা। এই গোলটির জন্যই কোচের বিশেষ তৃপ্তি পেয়েছেন।
ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেন, "হামজা অত্যন্ত নম্র ও ভালো চরিত্রের একজন। সে সর্বদা নিজের সেরাটি দেয়ার চেষ্টা করে এবং তার অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া সুযোগগুলোর কাছেই তার থাকা আবশ্যক, আর আজ সে সেখানেই ছিল। আমি একজন নয় নম্বরের কাছ থেকে এটি-ই প্রত্যাশা করি।"
স্পোর্ট পত্রিকার খবর, তরুণ বয়স হলেও হামজা "খুব পরিপক্ব এক খেলোয়াড়", যার চমৎকার শারীরিক কাঠামো ও অসাধারণ গোলদাতা ক্ষমতা রয়েছে। ক্লাবের বিশ্বাস, স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে সে দ্রুতই নিজের সেরাটা দিতে পারবে।
তবে নভ্যম বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে, হামজাই কি সেই কাঙ্খিত ‘নাম্বার নাইন’? বিশেষত যখন ফেরান তোরেস প্যারিস সেন্ট-জার্মেই-এ যোগদানের গুঞ্জনজানাচ্ছেন, তখন হামজার ওপর আস্থাই কি বার্সেলোনার আগামীর পথ? নাকি ট্রান্সফার বাজারে আরও খোঁজ চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েইছে।




