বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী সভায় ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’-এ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে। ফিফার পক্ষ থেকে গত রাতে পৌঁছানো চূড়ান্ত আমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে বাফুফের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমিরুল ইসলাম বাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, সংস্থাটি ইতোমধ্যে ফিফাকে নিশ্চিত করেছে যে বাংলাদেশ আসিয়ান কাপে খেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিফার কাছ থেকে গত রাতে ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে এবং সেই অনুসারে অংশগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ভারতের নাম প্রত্যাহারের ঘটনাই বাংলাদেশের জন্য এই সুযোগের দুয়ার খুলে দেয়। গত ১৩ আগস্ট ভারত টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেয়। এর পরপরই ফিফা বাফুফের কাছে সেপ্টেম্বর উইন্ডোর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চায়। একই সঙ্গে আসিয়ান কাপে খেলার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ আছে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়। বাফুফে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর গত রাতে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার চূড়ান্ত আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়। ফলে দেশের ফুটবল দল এখন নতুন একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

‘ফিফা আসিয়ান কাপ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল গত বছর, যা চলতি বছরের ফিফা কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। ফিফা আরব কাপের আদলে গঠিত এই প্রতিযোগিতা প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এটি অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। আসিয়ানভুক্ত ১১টি দেশের সঙ্গে চীন, ভারত ও হংকংকে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীন ও ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে ভারত নাম সরিয়ে নেয়। চীনের জায়গায় পাকিস্তানকে আগেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবার ভারতের জায়গায় সুযোগ পেল বাংলাদেশ।

প্রতিযোগিতাটি দুটি ডিভিশনে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হবে। ৮টি দল নিয়ে প্রিমিয়ার ডিভিশন হবে ইন্দোনেশিয়ায় এবং ৬টি দল নিয়ে চ্যালেঞ্জ ডিভিশন হবে হংকংয়ে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ডিভিশনে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। এই ডিভিশনের অন্য দলগুলো হলো থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে।

এবারের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডো মোট ১৬ দিনের। এই দীর্ঘ সময়ে বাফুফে ঘরের মাঠে চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল। পাশাপাশি কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতির টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ারও চিন্তা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হচ্ছে না, কিরগিজস্তানেও যেতে হচ্ছে না। আসিয়ান কাপেই খেলার সুযোগ পাওয়ায় উভয় পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ক্লাবগুলোকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে ফুটবলের ঘরোয়া মৌসুম পিছিয়ে যাচ্ছে, যাতে জাতীয় দল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারে।