ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন তীব্র চাপের মুখে। ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিইউ) প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে, এই সুইস প্রশাসকের ওপর তাদের কোনো আস্থা অবশিষ্ট নেই। শুধু তাই নয়, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর বিকল্প হিসেবে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমেছিল বলে মনে হচ্ছিল, কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব সম্প্রতি উত্থাপন করেছিলেন ইনফান্তিনো। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু ডিবিইউর মূল্যায়নে, এই উদ্যোগ ফিফা নেতৃত্বের প্রতি এক গভীর আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটির স্পষ্ট অবস্থান, কোনো প্রস্তাব বাতিল বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে এই ক্ষতির মেরামত সম্ভব নয়।

আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার পরবর্তী নেতৃত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডিবিইউ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তারা ইনফান্তিনোকে কোনো সমর্থন জানায়নি। এবারও তাঁর পক্ষে কোনো ভোট বা সমর্থন দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছে ডেনিশ কর্তৃপক্ষ।

বোর্ড সভা শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ডিবিইউ বলেছে, বেশ কয়েকটি সদস্য সংস্থা এখন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করছে, যা একটি ইতিবাচক প্রবণতা। ডেনিশ সংস্থাটি উয়েফা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য, ২০২৭ সালের সভাপতির নির্বাচনের সময় সদস্য সংস্থাগুলোর সামনে একটি যোগ্য বিকল্প পথ খোলা রাখা। এমন একজন বিকল্প নেতৃত্বের প্রয়োজন, যিনি বিভিন্ন কনফেডারেশনের মধ্যে ভেঙে যাওয়া ঐক্য পুনরুদ্ধার করতে পারবেন এবং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসকে আবার জোড়া লাগাতে সক্ষম হবেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বাতিল হওয়া প্রস্তাবটি তোলার জন্য সদস্য সংস্থাগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল ফিফা কর্তৃপক্ষ। এরপর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক শেষে ইনফান্তিনোর প্রতি আবার সমর্থন জানান সংস্থাটির কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু এই পদক্ষেপ অসন্তোষ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই ফিফা সভাপতি।

ডিবিইউ তাদের অবস্থান আরও কঠোর ভাষায় প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমস্ত আস্থা সম্পূর্ণভাবে উঠে গেছে। প্রস্তাব প্রত্যাহার কিংবা পরবর্তী ক্ষমা প্রার্থনা—কোনো কিছুই এই বাস্তবতাকে বদলাতে সক্ষম হবে না। গত সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থায় নতুন একজন সভাপতি আসার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করে ডেনিশ ফুটবল সংস্থাটি।

ডেনিশ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আর কখনো কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না—ফিফার কাছ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ফিফা টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না।

ফিফা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী তাদের নাম ঘোষণা করেননি। সুইস প্রশাসক ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন ও প্রভাবশালী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী মহলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বর্তমানে ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা, এশিয়ার এএফসি এবং উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনক্যাকাফ—এই তিন কনফেডারেশনের কাছ থেকে পদত্যাগের চাপের মুখে রয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে আফ্রিকান কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং এশিয়ার কিছু দেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এখনো তাঁর পাশে রয়েছে।