ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনীতি যে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে—জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করার পরই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অপসারিত হলেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ আন্দ্রে ক্লেপাচ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উন্নয়ন ব্যাংক ভিইবি-র প্রধান অর্থনীতিবিদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর একটি সংবেদনশীল বক্তব্য প্রকাশের মাত্র দু'দিনের মাথায় ক্রেমলিন তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে পদত্যাগ বা অপসারণের নির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
মস্কো-ভিত্তিক সংবাদমূলক প্রতিষ্ঠান দ্য মস্কো টাইমস সম্প্রতি অর্থনীতিবিদদের একটি ফোরাম নিকিৎস্কি ক্লাবে ক্লেপাচের দেওয়া ভাষণের কিছু অংশ প্রকাশ করে। সেখানেই তিনি যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুতর মন্তব্য করেন। সেই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়া পিছিয়ে পড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও সামরিক সহায়তায় সমৃদ্ধ ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমনকি তিনি বলেন, 'আমি প্রায় নিশ্চিত যে আমরা একটি সামাজিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।' এই মন্তব্যের পরই তাঁর আকস্মিক অপসারণ ঘটে। এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে সিএনএন ভিইবি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে আনে। একদিকে দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর বাড়ছে; অন্যদিকে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মতামত দেওয়ার মূল্য হিসেবে যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ক্লেপাচ তাঁদেরই একজন।
ক্লেপাচ তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের 'গ্রেট প্যাট্রিয়টিক ওয়ার' অপেক্ষাও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এর সমাপ্তির সম্ভাবনা নেই। রুশ অবকাঠামোতে ইউক্রেনের বিমান হামলা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের অভ্যন্তরে উচ্চ সুদের হার—এই তিনটি কারণই রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে গত মে মাস থেকে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের আকাশপথে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রুশ জনগণের মধ্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধে ব্যবসায়ী মহলকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বাধ্য করাই ইউক্রেনের এই হামলাগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য।



