লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে দলবিরোধী আইনের আওতায় অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শীর্ষ আদালতে দায়ের করা এই আবেদনে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বির্লার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে ওই ২০ সাংসদ অন্য একটি দলে যোগ দেওয়ায় তাদের সাংসদ পদ বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে কীভাবে তারা অন্য দলে গিয়ে সংসদে বসতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এনসিপিআই নামের নতুন একটি আঞ্চলিক দল গঠন করে সেখানে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। সংসদে তাদের আলাদা আসন বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করা হলে ওম বির্লা অনুমতি দিলেও এনসিপিআই সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি। ফলে নতুন দলে তাদের যোগদানের বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে।
এই বিদ্রোহ মেনে নেয়নি তৃণমূল। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে জিতে অন্য দলে গিয়ে আলাদা আসনে বসার প্রশ্নই ওঠে না। এর আগে গত ১৯ জুন এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে প্রথম আবেদন করেন অভিষেক। এরপর ২৭ জুলাই ও ১২ আগস্ট দুই দফা স্মারক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু স্পিকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট মামলা করার অনুমতি দিলে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা পড়ে।
আবেদনে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে তাদের আলাদা আসনের অনুমতি বাতিল করে তৃণমূলের ২৮ সাংসদের জন্য নির্ধারিত আসনেই বসার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালায় বিজেপি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০৮টি এবং তৃণমূল ৮০টি আসনে জয় পায়। ফলাফলের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ মাথা চাড়া দেয়।
বিধানসভাতেও এর প্রভাব পড়ে। তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৭০ জন বিদ্রোহ করে আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন বলে জানা গেছে। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরে বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কেরা আলাদা বিরোধী জোট হিসেবে অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এই পালাবদলের ঢেউ পরে লোকসভাতেও পৌঁছায়। তৃণমূলের ২৮ সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়ে আলাদা আসন নিয়ে বসার অনুমতি পেলেও নতুন দলের সদস্য হিসেবে তাদের স্বীকৃতি এখনও মেলেনি।



