রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক শিক্ষার্থী আদালতে তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। মো. রাতুল হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি প্রদান করেন, যেখানে তিনি জানান, গুলিটি তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে প্রবেশ করে এবং এতে তাঁর হাড়ের প্রায় দেড় ইঞ্চি অংশ ক্ষয় হয়ে গেছে এবং হাড়টি সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়েছে।
রাতুল হাসান তেজগাঁও কলেজের মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ওই সময় তিনি প্রথম বর্ষে পড়ছিলেন। রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার ঘটনায় গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১২তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার চার আসামির মধ্যে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান। এরই মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন, অন্যদিকে রাশেদুল ও মশিউর পলাতক রয়েছেন।
জবানবন্দিতে রাতুল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে রামপুরা মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে আন্দোলনে যোগ দেন তারা। সেখানে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখতে পান। কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই হঠাৎ তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার সময় তিনি বেটার লাইফ হাসপাতালের দিকে দৌড়াচ্ছিলেন। তখন একটি গুলি তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে পেছন দিক থেকে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই ঘটনায় তার ক্ষতস্থানে হাড় ক্ষয় হয়ে চুরমার হয়ে যায় বলে আদালতকে জানান তিনি।
আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। জবানবন্দির সময় ট্রাইব্যুনালে পায়ে গুলি লাগার স্থানটিও দেখান রাতুল। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি বলে আদালতকে অবহিত করেন।
ঘটনার দিন কারা গুলি চালিয়েছিল সে সম্পর্কে তিনি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রাতুল। তিনি জানান, বিজিবির রেদোয়ান ও রাশেদ এবং পুলিশের মশিউর ও একজন এডিসি গুলি চালিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আরও জানতে পারেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের এই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যারা এই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা গুলি ছুড়েছেন, তাদের সকলের বিচার চান রাতুল হাসান।




