মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত একাধিক মামলায় বন্দী রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে স্বামীর মৃত্যুর পর শেষবিদায় জানাতে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তাঁর প্যারোল মঞ্জুর করেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বুধবার চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন; তবে প্রশাসন ১২ ঘণ্টার অনুমোদন দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীপু মনির মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী বুধবার কারাগার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দুপুরে তাঁদের জানানো হয় যে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোল মঞ্জুর হয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যেই স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি।
দীপু মনির স্বামী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মরদেহবাহী গাড়িতে রাখা হয়, যা পরে কলাবাগানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে প্রবেশ করে কারাগারের বিশেষ যান ও পুলিশের গাড়ি। সকাল সোয়া ছয়টার দিকে পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে বের হন দীপু মনি। কারাগার যানবাহনে করে তাঁকে ঢাকার কলাবাগানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে সংরক্ষিত স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন।
বাদ জোহর রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে তৌফিক নেওয়াজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দীপু মনিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
দাফন শেষে বেলা তিনটার কিছু পর কারাগার যানবাহন ও পুলিশের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁরা জেলা কারাগারে পৌঁছান। কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক জান্নাত-উল ফরহাদ প্রথম আলোকে জানান, সময়মতো কারাগারে প্রবেশ করেন দীপু মনি। এভাবে ১২ ঘণ্টার প্যারোলের মেয়াদ শেষ হয়।
কারাগারে অবস্থানকালীন দীপু মনি একাধিকবার স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন, কিন্তু কোনো অনুমতি পাননি। আদালতে হাজির করা হলে তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ শয্যাশায়ী অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। এই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের পর শেষবারের মতো একসঙ্গে থাকার সুযোগ পেলেন তিনি, যদিও তা ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।




