চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আবারও বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ নানা সবজির মূল্য কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিতে বহু এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তাই বাজারে সরবরাহও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ বাড়া পর্যন্ত দামের খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলে তারা মন্তব্য করেন।
সরেজমিনে কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার ও আশপাশের অস্থায়ী ভাসমান হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা প্রথমেই দাম জানতে চাইছেন এবং উত্তর শুনে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। দামের কারণে অনেকে এক কেজির বদলে আধা কেজি, আবার কেউ আধা কেজির বদলে ২৫০ গ্রাম সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
চকবাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম আগে থেকেই বেশি। এখন সবজির দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে অন্তত পাঁচ-ছয় রকম সবজি কিনতে পারতাম। এখন দুই-তিন রকম কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ভালোমানের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না।’
কাজীর দেউড়ি বাজারে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আবদুল কাদের বলেন, ‘কয়েক দিন আগে যে সবজি ৬০-৭০ টাকায় কিনেছি, এখন তার দাম ১০০ টাকার বেশি। আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার হতো, এখন তা ৮০০-৯০০ টাকার কমে হচ্ছে না।’
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, কাঁকরোল ৯০-১০০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে ২৪০ টাকা কেজি। তবে বাজারভেদে দামে ৫-১০ টাকার পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকা এবং শসা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়েছে।
চকবাজার খালপাড়ের সবজি বিক্রেতা বাবুল বলেন, ‘আড়তে গিয়ে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যায়, তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারছি না, তাই বাড়তি দাম রাখতে বাধ্য হচ্ছি।’
বিক্রেতারা আরও জানান, বন্যায় দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আজ আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। বাকি সবজির দামও বাড়তি। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ও সরবরাহ বাড়লে আশা করা যায়, সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।’




