শম্ভুগঞ্জের বাসিন্দা শরীফুল ইসলামের বড় মেয়ে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে মা হয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পাঁচবার গর্ভপাতের পর সম্প্রতি তিনি যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। শিশু দুটির বয়স এখন ছয় মাস এবং তারা সম্পূর্ণ সুস্থ।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক নারী চিকিৎসকের সঙ্গে শরীফুল ইসলামের পরিবারের গভীর সম্পর্ক। প্রায় দুই দশক আগে শম্ভুগঞ্জ ঘাটের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রথম দেখা হয় তাদের। সেসময় শরীফুল ইসলাম তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা শেষে তিনি বিনয়ের সঙ্গে চিকিৎসককে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করার অনুমতি চান। সেই ছোট্ট অনুরোধ থেকেই গড়ে ওঠে এক নিবিড় বন্ধন।
শরীফুল ইসলাম পরবর্তী সময়ে প্রায়ই চিকিৎসকের কাছে আসতেন। কখনো নিজের সমস্যা, কখনো পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে। তাঁর অমায়িক স্বভাব চিকিৎসককে মুগ্ধ করে। একসময় চিকিৎসক তাকে ‘ভাই’ বলে ডাকা শুরু করেন। এরপর শরীফুল ইসলামের পাঁচটি সন্তানের জন্মই ওই চিকিৎসকের হাত ধরে হয়। তিন মেয়ে ও দুই ছেলে—প্রত্যেকের আগমনে চিকিৎসক ছিলেন পাশে।
শরীফুল ইসলামের বড় মেয়ে শৈশব থেকেই মৃগীরোগে আক্রান্ত। অনেক চিকিৎসা ও সতর্কতার পরও তিনি বড় হন, লেখাপড়া করেন এবং বিয়ে করেন। বিয়ের পর সন্তান ধারণে গিয়ে শুরু হয় তাঁর দুর্ভোগ। পাঁচবার গর্ভধারণ করলেও প্রতিবারই গর্ভপাত ঘটে। চিকিৎসক প্রতিবার সান্ত্বনা দিতেন এবং আশা ধরে রাখতে বলতেন। ষষ্ঠবার গর্ভধারণের পর আলট্রাসনোগ্রামে দেখা যায়, তিনি যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন।
চিকিৎসক প্রথম থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। গর্ভকাল ২৮ সপ্তাহ পূর্ণ হতেই হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হয়। দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রাখা হয় শিশুদের। কয়েক সপ্তাহ পর তারা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।
সম্প্রতি হজ পালন শেষে শরীফুল ইসলাম চিকিৎসকের জন্য পবিত্র জমজমের পানি ও খেজুর নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের মাথায় হাত রেখে তিনি দোয়া করেন এবং কৃতজ্ঞতা জানান। চিকিৎসক বলেন, ‘রক্ত মানুষকে আত্মীয় করে, কিন্তু ভালোবাসা মানুষকে আপন করে।’ তিনি আরও জানান, পেশাগত জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের এই আস্থা ও বিশ্বাস। এই পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজীবনের।




