রাজধানী ঢাকায় গত রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরজীবন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘরবন্দি হয়ে পড়লেও থেমে থাকেননি খাদ্য সরবরাহকারী শেখ হাসান। মোহাম্মদপুরের রাস্তায় হাঁটুপানি ঠেলে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। পিঠে খাবারের ব্যাগ নিয়ে মাথার ওপর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটছেন এই তরুণ। তার ভাষ্য, জীবিকার প্রয়োজনে বৃষ্টি-বাদল কোনো বাধা নয়।

রোববার দুপুরে মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায় হাসানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিশেষ অফার চলছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি ডেলিভারির জন্য বাড়তি ১৫ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। তবে সাধারণত প্রতিটি ডেলিভারির বিনিময়ে তিনি ২২ থেকে ৩০ টাকা পান। রাতের বেলায় এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় হাজার টাকা আয় করতে তাকে কমপক্ষে ৩০টি ডেলিভারি দিতে হয়। এর জন্য তাকে দশ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়।

হাসানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তিনি জানান, বৃষ্টির সময় মাঝে মাঝে কোম্পানি বাড়তি অফার দেয়। আজকের দুই ঘণ্টার বিশেষ অফারে চারটি ডেলিভারি দিতে পেরেছেন তিনি, ফলে বাড়তি আয় হয়েছে ৬০ টাকা। এতেই খুশি তিনি। তবে সব সময় যে বৃষ্টির মধ্যে অফার পাওয়া যায়, তা নয় বলেও আক্ষেপ করেন এই তরুণ।

সকালে ভারী বৃষ্টির মধ্যেও হাসানের মতো আরও অনেক তরুণকে রাস্তায় খাবারের ব্যাগ নিয়ে ছুটতে দেখা গেছে। তাদের কাজের ধরন এমন যে দেরি হলে ডেলিভারি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে তাদের রেটিং কমে যায়, যা আয়ে প্রভাব ফেলে। তাই হাসানের সঙ্গেও বেশিক্ষণ কথা বলার সময় ছিল না। তার ব্যাগে ইতিমধ্যে মোহাম্মদপুরের হোমমেড ‘ফুড ক্যানটিন’ থেকে খাবার উঠে গেছে। আরও কয়েকটি ডেলিভারি বাকি আছে তার। বৃষ্টি থামুক বা না থামুক, প্রতিটি অর্ডারের ওপর নির্ভর করছে তার আজকের আয়।

প্রবল বর্ষণের কারণে রাজধানীতে অনেকে অনলাইনে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন। ফলে খাদ্য সরবরাহকারীদের কাজের চাপও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসানের মতো শ্রমজীবী তরুণদের আয়ের পথ একটু সহজ হয়েছে। তবে দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে কাজ করার শারীরিক কষ্টও কম নয় বলে জানান তিনি।