নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় টানা দুই দিন পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামের ভেলুয়ারচর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারায় জান্নাতি আক্তার (৮) ও নিপা আক্তার (৭)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শীলা আক্তার মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেলা পৌনে একটার দিকে তাদের আনা হলে হৃৎস্পন্দন পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একই উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের একটি খালে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যায় চার শিশু। নিহতরা হলো শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), মো. রুবেলের মেয়ে জান্নাত (৮) ও বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা সবাই স্থানীয় গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। চার শিশুর পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র। তাবিয়ার বাবা দিনমজুর, আয়েশার বাবা কলা বিক্রি করেন, জান্নাতের বাবা রাজমিস্ত্রি এবং সুমাইয়ার বাবা বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালান। স্বজনরা জানান, বর্ষায় খালটি কানায় কানায় ভর্তি থাকলেও শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না। নিহত শিশুরা কেউই সাঁতার জানত না এবং কাউকে না জানিয়েই খালে নেমেছিল। তাবিয়ার বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘স্টেশনে ঢাকার ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলাম। ট্রেনে উঠার সময় ফোনে জানতে পারি মেয়ে পানিতে পড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি মেয়ের লাশ পড়ে আছে। আমার একমাত্র মেয়ে, আর নাই।’ আয়েশার বাবা রুবেল মিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘অভাবের সংসারে মেয়ের হাসি দেখে কষ্ট ভুলতাম। সেই মেয়েটি আর নাই।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে চার শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পার্শ্ববর্তী সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল বলেন, শিশুদের বাড়ি পাশাপাশি থাকায় ও একসঙ্গে খেলাধুলা করার কারণে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের একসঙ্গে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নিহতদের পরিবার ময়নাতদন্তে আপত্তি জানায় এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।