ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সুরক্ষা ব্যবস্থা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালের আগে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বুধবার রাতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ চলাকালে হাজারো দর্শকের জটলায় ভাস্কর্যের চারপাশ ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর, কেউ ভুভুজেলা বা জার্সি বিক্রি করছিলেন, আবার অনেকে ভাস্কর্যের নিচে ঘুমিয়েও পড়েছিলেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চিরায়ত প্রতীক এই ভাস্কর্যটি এখন অরক্ষিত। একসময় এর চারপাশে থাকা লোহার বেড়ার একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা কারা ঘটিয়েছে তা অজ্ঞাত। এমন অরক্ষিত অবস্থায় ফুটবল উন্মাদনা উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছিল ২২ জুনের বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে, যখন দলবেঁধে একাংশ তরুণ ভাস্কর্যের কাঠামো ও মূর্তির গায়ে উঠে উল্লাস প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, একসময় লোহার বেড়া ভাস্কার্যটিকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত রাখত এবং কদাচিৎ কেউ সীমানা অতিক্রম করতেন। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভাস্কর্যের গায়ে শ্যাওলা ও ময়লা জমেছে।
১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহদাৎ বরণ করা বাম ছাত্রনেতা মঈন হোসেন রাজুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালে এই ভাস্কর্যটি স্থাপিত হয়। শিল্পী শ্যামল চৌধুরীর নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিচিহ্ন গত তিন দশক ধরে ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিবাদী কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রস্থল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোরও সাক্ষী ছিল এই পাদদেশ।
২০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালকে কেন্দ্র করে টিএসসি ও ক্যাম্পাসের পাঁচটি পয়েন্টে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাইরের বিপুল মানুষও ক্যাম্পাসে আসবেন বলে প্রশাসনের ধারণা। এই বিপুল জনসমাগমকে সামনে রেখে রাজু ভাস্কর্যটির সুরক্ষা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি জানতে চাওয়া হলে ভাস্কর্য রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিমুল খবির জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বর্তমানে এটি সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং বলেছেন, ফাইনাল উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও স্মৃতিস্তম্ভগুলোর নিরাপত্তা নিয়া আলোচনা চলছে, শীঘ্রই বিস্তারিত জানানো হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, এই মুহূর্তে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভাস্কর্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি ভাস্কর্যটির নান্দনিকতা বজায় রাখতে মূল নকশাকারকের কন্যা রূপকল্পা চৌধুরীর দেওয়া নকশা অনুযায়ী একটি সার্বিক সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেও আছে।

