রাজশাহীর পবা উপজেলায় গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম ফরিদা খাতুন (৪০)। তাঁর স্বামী লালন শেখ হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ। হামলার সময় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তাঁর ছেলে মো. ফয়সাল, যাকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পবা উপজেলার হরিয়ান পূর্ব পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ফরিদা খাতুনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। আজ শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ মর্গে ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার আগেই ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়িটি তিনতলা হলেও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। দোতলা পর্যন্ত বাসযোগ্য ছিল। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির একটি কক্ষে তখনো আগুন জ্বলছিল। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফরিদার শাশুড়ি বাসিয়া বেগম জানান, শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী পরশ কোথায় যেন কাকে মেরে এসেছে—এ নিয়ে সন্ধ্যায় ফরিদা কথা বলছিলেন। পরশের মা পলি খাতুন বিষয়টি শুনে তাঁর ছেলেকে জানান। তখন পরশ তিনতলার ছাদ থেকে গালিগালাজ করতে করতে নিচে নেমে আসেন। তাঁর সঙ্গে আরও দুজন আসেন। তাদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরিদাকে কুপিয়ে জখম করে। মাকে বাঁচাতে গেলে ফয়সালকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী জানান, লালন শেখের প্রতিবেশী বাবুর ছেলে পরশ (১৮) হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ লালন শেখ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে নগরের কাটাখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মামলার আসামি পরশ এর আগে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পবা উপজেলায় গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
রাজশাহীর পবায় গ্রাম পুলিশের স্ত্রী ফরিদা খাতুনকে বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আহত তার ছেলে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত পরশের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ মামলা দায়ের করলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।




