রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত বারোটার দিকে উপজেলার চানপাড়া এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সৌভাগ্যবশত এতে কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। পাশাপাশি একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান।
আবদুর রাজ্জাকের অভিযোগ, তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের সময় কয়েকটি গুলিও ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ওসি জিল্লুর রহমানের মতে, গুলি চালানোর ব্যাপারে এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। ঘটনার পর শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি বলে তিনি জানান।
হামলার কিছুক্ষণ আগে রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, হামলার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নেই। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তবে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে আতঙ্কিত করতে বা সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখতেই কেউ এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁর ধারণা। দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে—এ তথ্য জানালে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে শনিবার দুপুরে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপি। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে গোডাউন মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান, ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিকসহ দলীয় নেতারা।
স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করে পোস্ট দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




