নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর পর লাশ কবরস্থানে মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের জিডি করতে থানায় যাওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার রাতে শরীফ মিয়া (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার ভগীরথপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৮) ও আট বছরের মেয়েকে নিয়ে নোয়াকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তিনি।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, জাহানারা ও শরীফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত সোমবার দুপুরে বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শরীফ জাহানারাকে থাপ্পড় দিলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে টিউবওয়েলের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে শরীফ তাঁকে ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন।

শরীফের বরাতে পুলিশ জানায়, কিছুক্ষণ পর তিনি বুঝতে পারেন জাহানারা আর শ্বাস নিচ্ছেন না। তাঁর মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে জন-জানাজানির ভয়ে কাউকে কিছু জানাননি শরীফ। রাত পর্যন্ত লাশ ঘরেই ছিল। পরে রাতে লাশটি পাশের কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে একাই মাটিচাপা দেন তিনি।

পরদিন সকালে জাহানারাকে বাড়িতে না দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে শরীফ তাঁদের বলেন, জাহানারা আগের দিন বিকেলে আড়াইহাজার বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি এবং মুঠোফোনও বাড়িতে রেখে গেছেন। এরপর শ্বশুর ও স্বজনদের নিয়ে থানায় গিয়ে জাহানারা নিখোঁজের জিডি করতে চান তিনি। তবে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ আপাতত জিডি না করে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার শরীফকে ওই কবরস্থানের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় লোকজন, যাতে তাঁদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। বুধবার রাত নয়টার দিকে কবরস্থানের সামনে শরীফকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে মাধবদী থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন শরীফ।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, রাত ১০টার দিকে নোয়াকান্দি গ্রামের ওই কবরস্থান থেকে শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ত্রীর লাশ গুমের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় আপাতত ৫৪ ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ তোলার প্রক্রিয়া চলছে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে।