জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. শাখাওয়াত (৩১), মো. সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), মো. সাদ্দাম (৩০), মো. অন্তর (৩০), মো. উজ্জ্বল (৩১) ও মো. ফয়জুর (৩২)। অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চান মিয়া (৫০), মো. জিয়ার (৪৫), মো. শাহ আলম (৪৪), মো. কাওছার (৩০), মো. সুমন (৩১), মো. রিফাত (৩২) ও মো. মোস্তফা (৫০)। দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মহর আলী (১৯) ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে (১৬) ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। এরপর তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতদের পরিচয় গোপন করতে দাহ্য পদার্থ দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ১৯ মে নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলাটি পরিচালনার সময় আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।




