বিদেশি অনলাইন বেটিং সাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অবৈধ পথে বিদেশে পাচারের ঘটনায় জড়িত আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে চক্রটির গ্রেপ্তারকৃত সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জনে।
বৃহস্পতিবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, বুধবার রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮) নামের দুজনকে আটক করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতরে ও বিদেশ থেকে পরিচালিত একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের কার্যক্রমের সন্ধান পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের প্রচারণা চলছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে বেটিং ও অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার পাশাপাশি অর্থের লেনদেন হতো।
তদন্তে বেটিং সাইটগুলোর এজেন্টদের ব্যবহৃত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে গত ১৭ মে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে সিআইডি। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বেরিয়ে আসে, চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করতেন। পরে এজেন্টদের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে যুক্ত করা হতো। এই নম্বর ও হিসাবের মাধ্যমে জুয়াড়িদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং উত্তোলনের কাজ চলত।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়ার আয়ে থেকে এজেন্টরা কমিশন বাদ দিতেন; বাকি অর্থ ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ছিলেন সৈয়দ জামান। নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন তিনি। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার রুহুল কুদ্দুস অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত ৭ জুন থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও নড়াইল জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির আরও আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তারা হলেন—মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮), মো. জুয়েল রানা (৩২), মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩), আবু জোবায়ের সানি (৩৬), মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮)।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির সিপিসির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। চক্রটির সঙ্গে বিদেশে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র আছে কি না এবং অবৈধ লেনদেনের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং সাইটের পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
সিআইডি সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও অনুরোধ করেছে, অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করতে এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে।




