আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতারা আজ সোমবার বিকেলে উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে সংসদ সদস্য দলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করে নিজের মতো করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য তিনি আদিতমারী বিএনপিকে বিভক্ত করেছেন এবং দলীয় কাঠামো ভেঙে নিজ অনুসারী তৈরি করে বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের পর থেকে তিনি কর্মীদের নিয়ে কোনো মূল্যায়ন সভা করেননি কিংবা এলাকার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেননি। বরং জাতীয় পার্টি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলাম এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশে ইচ্ছামতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার পর এমপির নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে আরেকটি সভার আয়োজন করা হয়, যা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নির্দেশনা অমান্য করে তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দলের নাম ভাঙিয়ে একটি বিধিবহির্ভূত সভা আহ্বান করেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগের জবাবে সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বলেন, আগামীকাল বিকেলে আদিতমারীতে আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন-উত্তর কর্মী মূল্যায়ন সভা বানচালের জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এই অসত্য অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন তিনি যাতে নির্বাচিত না হন। এখন তিনি এমপি হওয়ায় তাঁরা নানা অজুহাতে বিরোধিতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবু ইয়াহিয়া ইউনুছ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসানুল বান্না, সদস্যসচিব আবু বাক্কার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহারিয়ার আলম ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল হালিমসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।