ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত, বলেছেন যে বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করলে প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ব্যবধান চোখে পড়ে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে জমে থাকা সমস্যা দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে একটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল এবং সেই অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার গঠিত হয়। সেই রক্তক্ষয়ী পটভূমির নিরিখে বিচার করলে সরকারের বর্তমান অবস্থান প্রত্যাশার তুলনায় অনেক খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের মনে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর ক্ষমতায় আসা একটি নির্বাচিত সরকারের সাফল্য যাচাইয়ের জন্য ছয় মাস খুবই স্বল্প সময়, তবে এটি একেবারে অপ্রতুলও নয়। এই সময়ের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সফলতা না-ও দেখা যেতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক সূচনা ও নীতিগত পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। বিবৃতিতে সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সরকারের ভঙ্গিতে জাতির মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে পুনরায় স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষার লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের স্থলে প্রণীত নতুন আইনগুলোতে পূর্ববর্তী সমস্যার কোনো সমাধান নেই বলেও তিনি দাবি করেন। এই পদক্ষেপগুলো জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অবহেলা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না; মানুষ এখন মাঠে না নামলেও একসময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
তবে ইসলামী আন্দোলনের আমির স্বীকার করেছেন যে, সরকারের কিছু উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ এবং কর্মব্যস্ততা ইতিবাচক দিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও তিনি একই ধরনের আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতা প্রত্যাশা করেন। তিনি জুলাই সনদ এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাসিবাদে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।




