দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সোমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে সোনা ও রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) ৩ হাজার ২৬৬ টাকা হ্রাস পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকায়। এর আগে গত শুক্রবার দাম বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবার তা কমিয়ে আনা হলো।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকায়। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি সোনার দামও কমেছে, যা বর্তমানে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোনার গয়নার ওপর ভ্যাতের বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জুয়েলার্স সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনার দামের সঙ্গেই ভ্যাত অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাত আদায় করা যাবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সোনার ভ্যাত কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়মে প্রতি ভরি সোনার গয়নার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভ্যাত ধার্য করা হয়েছে। এর আগে মোট দামের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাত নেওয়া হতো।
দাম কমার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যের ওঠানামাকে দায়ী করা হচ্ছে। জুয়েলার্স সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার দর বৃদ্ধির কারণেও এই সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সবসময় একই রকম থাকে না, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম কমানো ছাড়া উপায় ছিল না বলে তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে, সোনার দাম কমায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ই কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির কারণে অদূর ভবিষ্যতে আবারও দাম বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের বাজারে সোনার চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও, দামের এই ওঠানামা সাধারণ মানুষের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




