যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন নিয়ে নতুন এক নীতির ঘোষণা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ঘোষিত এই নীতিমালা অনুযায়ী, মেডিকেড আর ট্রান্সজেন্ডার অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচার বা হরমোন থেরাপির খরচ বহন করবে না। পাশাপাশি, রাজ্যভিত্তিক চিলড্রেন’স হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (সিএইচআইপি) আওতায় ১৯ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই চিকিৎসার অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একের পর এক নীতি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এখন পর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের এই চিকিৎসায় কত টাকা করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। মেডিকেয়ার ও মেডিকেড সার্ভিসেস সেন্টার মঙ্গলবার এই নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি রাজ্য ইতিমধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ সেবা নিষিদ্ধ করেছে। যেসব রাজ্যে এই সেবা বৈধ, সেখানকার অনেক বড় হাসপাতালও বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের ঘটনা বিরল; বরং বয়ঃসন্ধি দমনকারী ও হরমোন থেরাপির ব্যবহারই বেশি দেখা যায়।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, মেডিকেড ও সিএইচআইপি ট্রান্সজেন্ডার অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার খরচ বহাল রাখবে। তবে যারা ইতিমধ্যে বয়ঃসন্ধি দমনকারী বা হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে এই অর্থায়ন পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সিএমএস প্রশাসক ডা. মেহমেত ওজকে এই পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা আমাদের নির্দোষ শিশুদের এই বর্বর অস্ত্রোপচার ও পদ্ধতির খরচ বহন করব না, যা তাদের কচি শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে।”

অন্যদিকে, এলজিবিটিকিউ তরুণদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। গ্ল্যাডের আইনি পরিচালক জোশ রোভেনজার বলেছেন, এই নিয়ম “পিতামাতা এবং তাদের সন্তানদের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে বাধা সৃষ্টি করছে” এবং এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে। হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইনের প্রেসিডেন্ট কেলি রবিনসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ও তাদের পরিবারকে সন্ত্রস্ত করছে, যা বন্ধ করা জরুরি।” সংগঠনটি ইতিমধ্যে ফেডারেল কর্মচারীদের বেনিফিট প্ল্যান থেকে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ সেবা বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

যদিও আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশিরভাগ প্রধান চিকিৎসা সংস্থা লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ সেবার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবে আমেরিকান সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস এ বছরের শুরুর দিকে বলেছিল, লিঙ্গ ডিসফোরিয়ায় আক্রান্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বুক, যৌনাঙ্গ ও মুখের অস্ত্রোপচারের উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি কিনা তার “পর্যাপ্ত প্রমাণ” তারা পায়নি।

এর আগে প্রশাসন ঘোষণা করেছিল যে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ সেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলো মেডিকেড ও মেডিকেয়ার তহবিল থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পাসপোর্টে লিঙ্গ হিসেবে পুরুষ, নারী বা এক্স উল্লেখের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। গত বছর প্রশাসন ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের জন্য বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তে শুধুমাত্র থেরাপির সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল।

এই পরিবর্তনগুলোর বেশিরভাগই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পাসপোর্ট নীতি বহাল রেখেছে এবং রাজ্যগুলোকে ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অনুমতি দিয়েছে। তবে একটি নিম্ন আদালত প্রশাসনের সেই ঘোষণার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যেখানে চিকিৎসাগুলোকে অনিরাপদ ও অকার্যকর বলা হয়েছিল। হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে নীতিটি নিয়েও একটি মামলা এখনও বিচারাধীন।