যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের একটি নতুন অর্থ-আদায়ের সেবা নিয়ে বুধবার ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, যেমন যুদ্ধ, শুল্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের পোস্ট অন্যদের আগে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে, সরকারি ঘোষণা সবার জন্য একই সময়ে উন্মুক্ত করা উচিত এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম সুবিধা দেওয়া সংবিধানের পরিপন্থী।
এই মাসের শুরুর দিকে চালু হওয়া সেবাটিতে ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে এমন পোস্ট অন্যদের আগে দেখার জন্য মাসে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রেস ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন এক বিবৃতিতে বলেন, "একজন প্রেসিডেন্ট তার নিজের তৈরি খবরে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার বিক্রি করছেন — যা তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন এমন একটি বেসরকারি কোম্পানির স্বার্থে — এটি এতটাই কলুষিত ও অসাংবিধানিক যে কয়েক বছর আগেও এর কথা ভাবা কঠিন ছিল।" এই মামলায় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্টও বাদী হিসেবে রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি বলেছে, ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত তথ্য প্রবেশাধিকার বিক্রি তাদের শিল্পে সাধারণ একটি বিষয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, বামপন্থী কর্মীরা আদালতকে অপব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে সেন্সর করতে চাইছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তথ্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক API পরিষেবাও রয়েছে।
এই অগ্রিম অ্যাক্সেস সেবাটি এমন এক সময়ে এলো যখন পাবলিকলি ট্রেডেড ট্রাম্প মিডিয়া প্রতি প্রান্তিকে কয়েক মিলিয়ন ডলার লোকসান করছে। দুই বছর আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬২ ডলার থেকে এখন ১০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
মামলাকারীরা বলছেন, এই সেবা সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে। প্রথম সংশোধনীর আওতায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্য সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমানভাবে পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, পঞ্চম সংশোধনী সরকারি সুবিধার জন্য অযৌক্তিক শর্ত আরোপে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই মামলায় ট্রাম্প মিডিয়ার নতুন পেইড সেবা 'ট্রুথ এপিআই' বন্ধের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে, যা মিলিসেকেন্ডের মধ্যে তথ্য অ্যাক্সেসের সুযোগ দেয়।
আলাদাভাবে, ট্রাম্পের সঙ্গে ট্রাম্প মিডিয়ার একটি চুক্তি রয়েছে, যার ফলে ট্রুথ সোশ্যাল প্রেসিডেন্টের পোস্ট অন্য কোথাও প্রকাশের ছয় ঘণ্টা আগে একচেটিয়া অ্যাক্সেস পায়। মামলায় সেটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। ট্রাম্প ট্রাম্প মিডিয়ার বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার, ট্রাস্টের মাধ্যমে তার ৪০ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে।
এই নতুন API সেবা চালুর আগেও নীতিনির্ধারকরা ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে লাভের চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছিলেন, যা ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের মতো। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তার প্রশাসন যে ক্রিপ্টো ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো থেকে গত বছর তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। এছাড়া তার ডিজিটাল ফাইন্যান্স কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে এবং তার ভক্তদের কাছে ট্রাম্প মিম কয়েন বিক্রি করেছে।
নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা এই মামলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি তার ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যানিয়েল স্ক্যাভিনো এবং নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি জে. হার্পকেও আসামি করা হয়েছে।




