গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে ট্রাম্প-সম্পর্কিত একটি যৌথ উদ্যোগ। সরকারি সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ড এনার্জি কোম্পানি এবং তাদের অংশীদার ৮০ মাইল কর্তৃপক্ষ শীতকাল ২০২৭ পর্যন্ত খনন কার্যক্রম বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে হাইড্রোকার্বন মজুতের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনায় পরিবেশগত ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ উত্থাপিত হওয়ায় কোম্পানিগুলো তাদের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তাতে খনন কার্যক্রমের আগে আরও বিস্তারিত প্রভাব মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
গ্রিনল্যান্ড এনার্জি কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা আইনগত ও পরিবেশগত সব শর্ত পূরণ করেই কাজ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ৮০ মাইলের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, বিলম্ব সত্ত্বেও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হয়নি। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী খননকাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের শীত মৌসুমে, তবে এর আগেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও সমীক্ষা সম্পন্ন করতে চায় তারা।
এই অঞ্চলে তেল অনুসন্ধানের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে জীবাশ্ম জ্বালানির সন্ধান পরিবেশবাদীদের কাছ থেকে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকেও এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।
সরকারি সতর্কবার্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেছে, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে কোম্পানিগুলো এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় খনন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কঠোর আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সেখানে কাজ করা বেশ কঠিন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী মাসগুলোতে কোম্পানি দুটি সরকারি সংস্থার সঙ্গে আরও বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। তারা আশা করছে, সময়মতো সব উদ্বেগ দূর করে নির্ধারিত সময়েই খননকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে আপাতত প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শীতকাল পর্যন্ত স্থগিত থাকছে, যা এই অঞ্চলের জ্বালানি খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




