গল টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালের সেশনটি শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালের জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাঠে নামার আগেই তাঁর সময় ভালো কাটছিল না—প্রথম ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন তিনি। এরপর ফিল্ডিং করতে গিয়ে ঘটে গেল আরও বড় দুর্ঘটনা।

ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে লোকেশ রাহুলের একটি শট থামাতে ডিপ মিডউইকেট থেকে ডিপ স্কয়ার লেগের দিকে দৌড়ে যান চান্দিমাল। বলটি আটকানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ডাইভ দেন তিনি। চার বাঁচানোর চেষ্টায় সফল না হলেও দুই রান রক্ষা করা যায়; কিন্তু সেই প্রচেষ্টার মূল্য চুকাতে হয় শরীর দিয়ে। ডাইভের পর কাঁধের ওপর পড়ে শরীর উল্টে যায়; ডিগবাজির মতো মাটিতে আছড়ে পড়েন এই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান। সীমানার ওপাশে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি।

অবিলম্বে মাঠে ছুটে আসেন সতীর্থ খেলোয়াড়, ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসক। সেখানেই শুরু হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। তবু চোটের কারণে মাঠে থাকা আর সম্ভব হয়নি চান্দিমালের পক্ষে। সতীর্থদের সহায়তায় কোনোমতে পায়ে ভর দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হেঁটে ফিরে যান তিনি। তাঁর জায়গায় বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামেন পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা।

চোটের অবস্থা প্রাথমিক মূল্যায়নে যতটা গুরুতর মনে হয়েছিল, পরবর্তীতে তা আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় চান্দিমালকে। সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর ঘাড় ও কাঁধের স্ক্যান করা হবে। যদি স্ক্যানের ফলে বড় ধরনের আঘাত ধরা পড়ে, তাহলে টেস্টের বাকি সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কা কনকাশন বদলি নামানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। স্কোয়াডে থাকা অতিরিক্ত টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে রয়েছেন সুরিয়াবান্দারা।

ম্যাচের বর্তমান অবস্থার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, গলে প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রানে অলআউট হয়েছিল ভারত। জবাবে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ২৮৪ রানে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪ উইকেটে ১১৬ রান। শুবমান গিলের দলের লিড পৌঁছেছে ২৯৪ রানে।

চান্দিমালের এই আঘাত দলীয় পরিকল্পনায় নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন তাঁর ব্যাটিং ফর্ম ইতিমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। হাসপাতালে স্ক্যানের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে—তিনি টেস্টের অবশিষ্ট অংশে মাঠে ফিরতে পারবেন কিনা, নাকি শ্রীলঙ্কাকে নতুন বদলি নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হবে।