বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে ইংরেজ ফুটবল ক্লাবগুলোর আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এসব দলের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা এবং বছরের পর বছর ধরে লোকসানের হিসাব দেখিয়ে আসছে। তবুও বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও ধনকুবেররা কেন এই খাতে অর্থ ঢালছেন— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন বিশ্লেষকরা।

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সম্প্রচার স্বত্ব ও বাণিজ্যিক আয় বাড়লেও মোট খরচ—বিশেষ করে খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিক ও ট্রান্সফার ফি—আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে নিট লোকসানের অঙ্ক প্রতিবছরই বাড়ছে। এর মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলছেন মূলত তিনটি কৌশলে।

প্রথমত, দলের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়ে যায়, যা পরবর্তী মালিকের কাছে বিক্রির সময় বড় অঙ্কের লাভ এনে দেয়। অর্থাৎ, ক্লাব নিজে লাভ না করলেও—এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেলে—মালিকানা বদলে দিয়ে মুনাফা আদায় সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, অনেক বিনিয়োগকারী ক্লাবের অবকাঠামো—স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভূমি—ব্যবহার করে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেন। এই সম্পদ থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত আয়ের পথ তৈরি হয়, যা ক্লাবের ক্রীড়া খাতে লোকসান পুষিয়ে নেয়।

তৃতীয়ত, কিছু বিনিয়োগকারী ক্লাবের যুব একাডেমি ও খেলোয়াড় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করেন এবং পরে উচ্চ দামে বিক্রি করেন। এই মডেলে খেলোয়াড় বিক্রির লাভ সরাসরি ক্লাবের আয়ের খাতে যুক্ত হয়। তাছাড়া, সম্প্রচার স্বত্বের ক্রমবর্ধমান দর এবং বৈশ্বিক ভক্তসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবগুলোর আর্থিক ভিত্তি মজবুত হবে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম, অবতরণ খেলোয়াড়ের বেতন কাঠামো এবং অব্যবস্থাপনা—যেকোনো সময় বিনিয়োগকারীদের হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারে। ফলে যারা মুনাফা তুলতে পারছেন, তারা মূলত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং ক্লাবের সম্পদ ব্যবহারের নিখুঁত কৌশলের কারণেই সফল হচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য এই খাত এখনো অনিশ্চিত বলেই মত দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

সবমিলিয়ে, প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো পর্দায় যেমন নাটকীয় ম্যাচ উপহার দেয়, পর্দার আড়ালে তাদের আর্থিক হিসাবও তেমনি জটিল—যেখানে লোকসানের গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মুনাফার নতুন সুযোগ।