জানুয়ারিতে শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া আহত বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সেরে উঠেছে। বন বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামীকাল রোববার (১২ জুলাই) তাকে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের কাছের বনে।

তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ১০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, বাকিগুলো রোববার বসানো হবে বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ আজিজ জানিয়েছেন। এসব ক্যামেরা আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হবে।

গত ৪ জানুয়ারি ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘিনীটির বয়স প্রায় ১০-১১ বছর। উদ্ধারের সময় তার বাম পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতে পচন ধরেছিল এবং সে কঙ্কালসার অবস্থায় ছিল। পরে খুলনার বন্য প্রাণী পুনর্বাসনকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের ফলে মার্চ মাসের মধ্যে তার ক্ষত শুকিয়ে যায়।

বর্তমানে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তার হারানো ক্ষিপ্রতা ফিরে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। গত শুক্রবার মেডিক্যাল বোর্ডের সভায় বাঘিনীটিকে প্রকৃতিতে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার বাঘ বিশেষজ্ঞদের একটি দলও খুলনায় এসে মতামত দেবে।

তবে বাঘিনীটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঘিনীটি যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি তার দখলে আছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তার অনুপস্থিতিতে অন্য বাঘ সেখানে বিচরণ শুরু করতে পারে। ফলে ফিরে গিয়ে তাকে নতুন এলাকা খুঁজতে হতে পারে বা সংঘর্ষে জড়াতে পারে। অধ্যাপক এম এ আজিজ অবশ্য মনে করেন, এটি বাঘিনী হওয়ায় সুবিধা আছে, কারণ পুরুষ বাঘ সাধারণত স্ত্রী বাঘের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় না।

স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় ট্র্যাপ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই বাঘিনীটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, বাঘিনীর জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আগে সংগ্রহ না করেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এলাকার শিকারের পরিমাণ ও অন্য বাঘের উপস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় এই প্রচেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ।