বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বলেছে, সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থান দুর্বল করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সমন্বিত ও চলমান’ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শনিবার প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইনফান্তিনোকে ঘিরে যে সব অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ‘ভিত্তিহীন দাবি’ এবং ‘প্রমাণিত মিথ্যা তথ্যের’ উপর ভিত্তি করে তৈরি। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন নেই, তারা অভিযোগ, ইঙ্গিত বা ভুল তথ্যের আশ্রয় নিয়ে এমন কিছু অর্জনের চেষ্টা করছে যা সংস্থার নির্ধারিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়।

২০২৭ সালে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রার্থী ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় ব্যবস্থাপনার জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ফিফা। তবুও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উয়েফার অবস্থান নরম হয়নি; বরং ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা।

এদিকে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। উয়েফায় কর্মরত এক নারীকে চাকরি ছাড়ার সময় আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে ইউরোপীয় সংস্থাটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারী ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন এবং ছয় অঙ্কের একটি অর্থ পেয়েছেন। উয়েফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সে সময়কার নিয়ম মেনেই ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল এবং একটি এমবিএ কোর্সের খরচও বহন করা হয়েছিল। তবে ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো এই সব অভিযোগ ‘জোরালোভাবে অস্বীকার’ করেছেন এবং সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে ফিফা বলেছে, ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন করছেন। বিবৃতিতে ফিফা আরও জানায়, ফিফা সভাপতি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোনো প্রক্রিয়াকে তারা সমর্থন, সহযোগিতা বা সহায়তা করবে না যা ফিফার গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠিত পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সংস্থাটির মতে, কিছু প্রতিবেদনে ফিফা এবং এর সভাপতিকে নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করা হচ্ছে। ‘অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ বারবার বলা হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না,’ বিবৃতিতে এমন মন্তব্যও করা হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়, তবে সমালোচনার সুযোগ নিয়ে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলতে দেওয়া হবে না। কোনো প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার সরাসরি ও কঠোর প্রতিবাদ জানাবে।

ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। কনমেবল জানিয়েছে, দ্রুত কোনো প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না। অন্যদিকে সিএএফ ইনফান্তিনোর প্রতি ‘সর্বসম্মত সমর্থন’ জানিয়েছে।