ফুটবলের ইতিহাসে হাজারো খেলোয়াড় এসেছেন, আবার চলে গেছেন। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমার—এই তিন কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছে গুটিকয়েকের। সম্প্রতি সেই বিরল তালিকায় যুক্ত হয়েছেন কাসেমিরো। রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জাতীয় দলে নেইমারের সতীর্থ ছিলেন। বর্তমানে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে মেসির সঙ্গে খেলছেন তিনি। প্রশ্ন হলো, কাসেমিরোর আগে আর কারা এই কীর্তি গড়েছেন?

স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সের্হিও রামোসের ক্যারিয়ার যেন এক বিচিত্র ভ্রমণপথ। ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে ছিলেন তিনি। এল ক্লাসিকোয় বছরের পর বছর মেসির বিপক্ষে খেলেছেন, আবার রোনালদোর সঙ্গে একই জার্সিতে শিরোপা জিতেছেন। ২০২১ সালে পিএসজিতে যোগ দেন। সেখানে মেসির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার পাশাপাশি নেইমারকেও সতীর্থ হিসেবে পান।

কোস্টারিকান গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের দৃষ্টিতেও ফুটবলের তিন যুগের দলিল লেখা হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে ছিলেন তিনি, ওই সময়ে রোনালদোর সঙ্গে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন। এরপর ২০১৯ সালে পিএসজিতে যান। সেখানে প্রথমে নেইমার এবং ২০২১ সাল থেকে মেসিকে সতীর্থ হিসেবে পান। পুরো মাঠ তার চোখে যেন খোলা বই, যার পাতায় তিন জাদুকরের ছবি আঁকা।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০৮ সাল থেকে মেসির সঙ্গে খেলছেন আনহেল দি মারিয়া। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে লা দেসিমা জিতেছেন। ২০১৫ সালে প্যারিসে পাড়ি জমান। ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নেইমারের সঙ্গে পিএসজিতে খেলেছেন। এই উইঙ্গারের ক্যারিয়ারে তাই মেসি ও রোনালদো—দুজনের সতীর্থ হওয়ার গৌরব রয়েছে।

জেরার্ড পিকের গল্প শুরু হয় লা মাসিয়ায়। শতাব্দীর শুরুতে বার্সেলোনা একাডেমিতে কিশোর মেসি ও পিকে একসঙ্গে অনুশীলন করতেন। ২০০৪ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যান, যেখানে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তরুণ রোনালদোর সঙ্গে খেলেন। পরে বার্সেলোনায় ফিরে মেসির সঙ্গে একের পর এক শিরোপা জেতেন। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেইমারও তার দলের সতীর্থ ছিলেন।

মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমিও এই তালিকায় আছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে খেলে ২০১৭-১৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। পরে ইন্টার মিলান হয়ে ২০২১ সালে পিএসজিতে যোগ দেন। সেখানে দুই মৌসুমে মেসি ও নেইমারের সতীর্থ ছিলেন।

তালিকাটি শুধু সাবেক তারকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থার মেলো ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গে খেলেছেন, এরপর ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জুভেন্টাসে রোনালদোর সতীর্থ ছিলেন। ব্রাজিলের জার্সিতে পেয়েছেন নেইমারকে। আন্দ্রে গোমেজও ২০১৬-১৭ মৌসুমে বার্সেলোনায় মেসি-নেইমার জুটির সঙ্গে খেলেছেন এবং পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সঙ্গে মাঠে নেমেছেন।

পিএসজি-পর্তুগাল চতুষ্টয়ও এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। দানিলো পেরেইরা ২০২০ সাল থেকে পিএসজিতে নেইমার-মেসিকে সতীর্থ হিসেবে পান। নুনো মেন্দেস ও রেনাতো সানচেজ ২০২১ সালে প্যারিসে আসেন, ভিতিনিয়া এক বছর পর। তিনজনই মেসি-নেইমারের সঙ্গে খেলেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে পর্তুগালের এই চারজনই রোনালদোর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন।

পাবলো সারাবিয়ার সংযোগটি একটু অন্যরকম। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের হয়ে একমাত্র ম্যাচে রোনালদোর বদলি হিসেবে নামেন। পরে হেতাফে, সেভিয়ায় ঘুরে ২০১৯ সালে পিএসজিতে যান। সেখানে নেইমার ও মেসির সতীর্থ হওয়ার সুযোগ পান। ফুটবলের এই তিন মহাতারকার সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য যে কয়েকজনের হয়েছে, তাদের নাম এখন ইতিহাসে লেখা।