বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল দুটি। আটলান্টায় গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা। এর আগেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ইউরোপের শিরোপাধারী স্পেন। ১৯৩০ সালের পর এটি হবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফাইনাল যেখানে স্প্যানিশ ভাষাভাষী দুই দল মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ দলকে সমতায় আনেন। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের জয়সূচক গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা প্রশংসনীয়। গর্ডনের গোলের পর পরবর্তী ৩১ মিনিটে ইংল্যান্ডের বল দখলের হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। অ্যাটাকিং থার্ডে ইংল্যান্ড মাত্র ৯ বার বল স্পর্শ করেছিল, যেখানে আর্জেন্টিনা তা করেছিল ১৭৪ বার। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল দলকে ৫-৪-১ ফরমেশনে রক্ষণাত্মক খেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, পাশাপাশি ড্যান বার্নকে মাঠে নামিয়ে গোল বাঁচানোর কৌশল নেন। কিন্তু বিশ্বমানের আক্রমণভাগের বিপক্ষে সেই চাপ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি ইংল্যান্ডের পক্ষে।
আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর ছিলেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের রক্ষণ গুটিয়ে থাকায় বক্সের বাইরে বল নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ডান প্রান্ত থেকে ক্রস ও বক্সে ঢুকে বিপজ্জনক পাস দিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে নাড়িয়ে দেন তিনি। বদলি নামা রদ্রিগো দি পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসাটাও ইংল্যান্ডের জন্য বড় সতর্কবার্তা ছিল। ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শট। এরপর মেসির ডান পায়ের নিখুঁত ক্রস থেকে জয়সূচক গোলটি করেন মার্তিনেজ।
ম্যাচের ফলাফল নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে রয়েছে তীব্র হতাশা। ১৯৯০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হারের পর এটাই সম্ভবত সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক বিদায়। হারের পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারি কেইন বলেন, ম্যাচের বেশিরভাগ সময় তারা ভালো খেললেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর কেবল লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, যা এই পর্যায়ের ফুটবলে যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণের ঢেউ ঠেকাতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট ছিল না।
এদিকে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার দেখা যায়, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তের গোল আর্জেন্টিনার জন্য নতুন কিছু নয়—৭৫ মিনিট পর এই টুর্নামেন্টে তাদের ১১তম গোল এটি। ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে চলা আর্জেন্টিনার সামনে এখন দ্বিতীয়বারের মতো টানা বিশ্বকাপ জয়ের চ্যালেঞ্জ।



