রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন দলের খেলোয়াড়েরা। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা। তবে উদযাপনের সময় একটি বিশেষ ব্যানার প্রদর্শন করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা, যা শুধু ক্রীড়া নয় বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোর হাতে ধরা ব্যানারটিতে লেখা ছিল— ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’। এই ব্যানারের মাধ্যমে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবিকেই আবারও সামনে আনা হলো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধ বেধেছিল। সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘হ্যান্ড অব গড’ ও শতাব্দীর সেরা গোলে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফকল্যান্ডের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

এবারের ম্যাচটি যে শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের সঙ্গেও জড়িত— সেটি ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদযাপনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও ম্যাচের আগে বারবার বলা হচ্ছিল এটি একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ, যুদ্ধ নয়। তবে বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ফকল্যান্ড যুদ্ধের সাবেক সেনাদের সংগঠন ‘২ এপ্রিল যুদ্ধ–প্রবীণ ফেডারেশন’ এক বিবৃতিতে জানায়, এই ম্যাচকে ফকল্যান্ড ইস্যুতে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। তারা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায় যে দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার জাতীয় দাবি এখনও অটুট রয়েছে। তবে মার্তিনেজ ও লো সেলসোর এই উদযাপন নিছক সচেতনতার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশোধের বার্তাই বহন করে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।

প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধে প্রাণ হারান ২৫৫ ব্রিটিশ ও ৬৪৯ আর্জেন্টাইন সেনা। সেই স্মৃতি আজও টাটকা দুই দেশের মানুষের মনে। ফুটবল মাঠে সেই লড়াইয়ের আবেগ ফিরে আসায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ব্যানার প্রদর্শনী। তবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা নিজেদের জয়ের আনন্দকে রাজনৈতিক বার্তার মাধ্যমে আরও তীব্র করে তুলেছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।