চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ৩ নম্বর জেটিতে শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানোর সময় ক্রেনের তার ছিঁড়ে একটি ৪০ ফুটের আমদানি কনটেইনার নিচে থাকা প্রাইম মুভার ট্রেইলারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে কনটেইনারটি ফেটে ভেতরে থাকা বিশাল আকৃতির কয়েকটি কাঠের গুঁড়ি ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘চ্যাং হাই’ নামের জাহাজ থেকে ৪ নম্বর গ্যান্ট্রি ক্রেনের মাধ্যমে কনটেইনারটি নামানোর কাজ চলছিল। সেই সময় স্প্রেডারের তার ছিঁড়ে গেলে কনটেইনারটি ট্রেইলারের ওপর ভেঙে পড়ে এবং দ্রুতগতিতে ছিটকে পড়া কাঠের গুঁড়িগুলো আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ছাড়া বন্দরের বাকি সব জেটিতে কনটেইনার ওঠানো-নামানোসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। তিনি আরও বলেন, আদতে কী কারণে স্প্রেডারের তার ছিঁড়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শনিবার রাত থেকেই ঘটনাকবলিত কনটেইনার অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। রোববার সকাল থেকে গ্যান্ট্রি ক্রেনটির মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে বন্দর সচিব জানিয়েছেন। উদ্ধার ও মেরামত কাজ শেষ হলে গ্যান্ট্রি ক্রেনটি আবার চালু করা সম্ভব হবে কি-না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি বন্দরের নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির ওপরও তদন্ত কমিটি সুপারিশ করবে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পুনরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো তদন্ত ও মেরামত সম্পন্ন হলে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে এই ঘটনার কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে দুর্ঘটনাটি বন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করছেন। বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধি ও যন্ত্রপাতির নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বন্দর সচিবের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর হওয়ায় এই ঘটনা দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থায় সাময়িক কিছু প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সঠিক কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করাই এখন বন্দরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।