প্রচলিত চায়ের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে হারবাল চা বা ভেষজ চা এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্য়ম থেকে ক্যাফে—সব জায়গায় নানা ধরনের হারবাল চা দেখা যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণ, ঘুমের উন্নতি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আশায় অনেকে এটি পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বলেই যে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, এমন ধারণা ভুল। ভেষজ উপাদানেও সক্রিয় রাসায়নিক থাকে, যা শরীরে প্রভাব ফেলে। তাই কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

বিভিন্ন হারবাল চায়ের পরিচিত উদাহরণ হলো আদা-চা, পুদিনা-চা, ক্যামোমাইল চা, লেমনগ্রাস-চা, হিবিস্কাস চা, তুলসী-চা ও দারুচিনি-চা। আদা-চা হজমে সাহায্য করে, বমিভাব কমায় এবং ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আরাম দেয়। পুদিনা-চা পেটফাঁপা ও বদহজমে উপকারী। ক্যামোমাইল চা শরীর ও মনকে শিথিল করে, তাই অনেকেই ঘুমের আগে পান করেন। হিবিস্কাস চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তুলসী ও লেমনগ্রাস-চা সতেজতা ও সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

তবে হারবাল চায়ের কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি রয়েছে। যেমন, ক্যামোমাইল বা নির্দিষ্ট ফুলজাতীয় ভেষজে অ্যালার্জি হতে পারে। অতিরিক্ত আদা-চা অম্বল বা পাকস্থলীর অস্বস্তি বাড়াতে পারে। হিবিস্কাস চা রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সঙ্গে নিলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি হারবাল চা পান না করাই ভালো।

প্রশ্ন উঠতে পারে, দৈনিক কতটুকু হারবাল চা খাওয়া নিরাপদ? সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে এক থেকে দুই কাপ সাধারণত নিরাপদ। তবে এটি পানির বিকল্প নয়। সারাদিনের তরল চাহিদা পূরণে বিশুদ্ধ পানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই দিনে একাধিক ধরনের হারবাল চা পান করলেও সতর্কতা প্রয়োজন। সকালে আদা-চা, দুপুরে লেমনগ্রাস-চা ও রাতে ক্যামোমাইল চা—এ ধরনের পরিমিত বৈচিত্র্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়। কিন্তু বিভিন্ন ভেষজ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বাজারে প্রচলিত 'ডিটক্স' বা 'স্লিমিং' চায়ের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নিয়মিত পান না করাই শ্রেয়।

সবশেষে, হারবাল চা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি আনন্দদায়ক সংযোজন হতে পারে। তবে এর উপকারিতা যেমন বাস্তব, তেমনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সচেতনতা, পরিমিতি এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝেই এটি পান করা উচিত। একক কোনো পানীয় নয়, বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ব্যায়াম ও ভালো ঘুমই স্বাস্থ্যরক্ষার মূল চাবিকাঠি।