গত ২৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধরা পড়ে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর গত শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরই রাতে নিজ নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চু মিয়া ও ওই ছাত্র মেহেদী হাসানকে (১৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। মামলার বাদী পাপিয়া আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বোর্ডের পক্ষ থেকে এই মামলা করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান বাচ্চু মিয়া। কিন্তু তিনি নিজে মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করান। এই অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ড।