বাংলাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা日渐 হ্রাস পাচ্ছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে যেখানে প্রায় ১ হাজার ৭৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৮৭ জনে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রকাশ না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারও সংখ্যা আরও কমেছে।

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসাশিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দুইটি ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। গতবার মোটামুটি শিক্ষার্থী থাকলেও এবার বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় কম। সরকারি মেডিকেলের জন্য বরাদ্দ আসন প্রায় পূর্ণ থাকলেও বেসরকারি খাতে আগের মতো শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) নানা উদ্যোগ নিচ্ছে এবং অধিদপ্তরও তাদের সহায়তা করছে।

এই হ্রাসের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি আর নেপাল ও মালদ্বীপের মতো দেশে নিজস্ব চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণও বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিকল্প গন্তব্যে আগ্রহী করে তুলছে। মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা এখন চীন, রাশিয়া বা মালয়েশিয়ায় পড়তে পছন্দ করছে, যদিও তারা ইন্টার্নশিপের জন্য বাংলাদেশে আসে।

সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর সার্ক ও নন-সার্ক কোটায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ থাকে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সার্ক কোটায় ১২৫টি ও নন-সার্ক কোটায় ৯৯টি আসন রয়েছে। তবে সব আসনই পূর্ণ হয় না। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রতিষ্ঠানভেদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত, যা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সাভারের এনাম, ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট, গাজীপুরের ইন্টারন্যাশনাল, বগুড়ার টিএমএসএস-এর মতো কলেজগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ভারতের মণিপুর থেকে আসা ধনরাজ শর্মা বর্তমানে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, নিজ দেশের সরকারি মেডিকেলে চান্স পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। পাঠ্যক্রমের মিল আর ভাষা শেখার সহজতার কারণেই তিনি বাংলাদেশ বেছে নিয়েছেন। কখনো নিজেকে অনিরাপদ বোধ করেননি বলে জানান এই শিক্ষার্থী।

নেপালের স্তুতি রিমাল গত বছর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সারা দেশে সেরা ১০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মুখ না খুললে কেউ বুঝতে পারে না তিনি বাংলাদেশি নন। নেপালের আরেক শিক্ষার্থী ডা. রাম সাগর শাহ বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিওনেটোলজিতে স্নাতকোত্তর করছেন। ভাষা জানা ও সরাসরি এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন।

সংখ্যা ফিরিয়ে আনতে বিপিএমসিএ ইতোমধ্যে মালদ্বীপ ও নেপালে শিক্ষামেলা আয়োজন করেছে। সংগঠনটির জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এ বছর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায়ও মেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং প্রয়োজন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও অনেকে আসেন, তাদের চিকিৎসাশিক্ষায় আগ্রহী করে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।