প্রায় আট বছর আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম প্রথম আলোকে জানান, তারা রায়ে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, মামলায় মোট ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর মতে, মামলাটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হলেও ১৬১ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবনই দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে। এদিন রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। সাজা পরোয়ানা শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে শাহানুর আক্তারের প্রথম স্বামী মো. হারুন মারা যাওয়ার পর তিনি জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। দম্পতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং দিনমজুরির পাশাপাশি বাড়ি থেকে ময়লা টানার কাজ করতেন। জাহাঙ্গীর নেশা করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন, যার কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর। ওইদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে ঘুম থেকে উঠে নাশতা খাওয়ার জন্য মাকে ডাকতে গিয়ে দেখে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে সে তার ভাই হৃদয়কে ডেকে আনে এবং দুজনে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর শাহানুরের গলাকাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পায়। সে সময় ঘরে আসামি ছিলেন না। নিহতের ভাই জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রফিকুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বলা হয়, যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় আসামি শাহানুরকে শোবার ঘরে খাটের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন এবং মৃতদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান। চার্জশিট গ্রহণের পর ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং বিচারকালে ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।