যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। মিনেসোটা ও উইসকনসিনের প্রাইমারিতে দলের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বড় আকারের নির্বাচনী লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিনেসোটায় অবসর নিচ্ছেন সিনেটর টিনা স্মিথ। তার আসনটি দখল করতে দলের ভেতরেই দুই শিবিরের লড়াই চলছে। প্রগতিশীল ধারার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্ল্যানাগান এবং মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসওম্যান অ্যাঞ্জি ক্রেইগ মনোনয়নের জন্য মুখোমুখি হয়েছেন। দলের ভেতরে এই দ্বৈরথ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ দুজনই দলের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ফ্ল্যানাগান প্রগতিশীল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যেখানে ক্রেইগ মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাইমারির ফলাফল শুধু মিনেসোটার রাজনীতিতে নয়, জাতীয় পর্যায়েও ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

অপরদিকে, উইসকনসিনের প্রাইমারিতেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। সেখানকার প্রার্থীরাও দলের আদর্শগত পার্থক্য ও নির্বাচনী অগ্রাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। দলের বামপন্থী ও মধ্যপন্থী শিবিরের এই সংঘাত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের একতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এখন পর্যন্ত এই দুই রাজ্যের প্রাইমারি ক্যাম্পেইনগুলোতে অর্থ সংগ্রহ, প্রচারণা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ এই লড়াই শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধে করে দিতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব আশা করছেন, প্রাইমারির পর দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

মিনেসোটা ও উইসকনসিনের এই প্রাইমারিগুলোকে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বড় নির্বাচনগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই রাজ্যের ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কৌশল এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।