যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্বকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবেও কাজ করছেন সার্জিও গর। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে অজিত দোভালের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এবং পারস্পরিক সম্পৃক্ততা ক্রমশ বাড়ছে।
এর আগে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গেও বৈঠক করেন সার্জিও গর। তার পরদিনই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আজকের বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি গতকাল বিক্রম মিশ্রি ও আজ অজিত দোভালের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, দুই দেশের সমন্বিত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বের নানা দিক এতে আলোচিত হয়েছে। বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা, জরুরি খনিজসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করার কয়েকদিনের মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হলো। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনার জন্যই ভ্যান্স মোদিকে ফোন করেছিলেন। সম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়াও এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য। ওই চুক্তিকে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পরপরই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




