রাশিয়ার কারাগার থেকে মানবিক বিবেচনায় মুক্তি পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন সদস্য রবার্ট গিলম্যান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, মানবিক কারণেই তাকে আটক থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার একটি মার্কিন বিমানে করে ওয়াশিংটন ডিসির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এড মার্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্যের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরেছেন। তার মতে, মুক্তির আগে গিলম্যান ‘প্রায় ক্যাটাটোনিক’ অবস্থায় ছিলেন এবং গুরুতর নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। প্রায় পঞ্চাশ দিন আগে চিকিৎসকরা তার শরীরে ‘dissociative stupor’ শনাক্ত করেন; এই অবস্থায় ব্যক্তি অপ্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়েন, খাবার গ্রহণ ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অক্ষম হয়ে যান। যদিও মুক্তির পর তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ পায়নি।
গিলম্যান ২০২২ সালে ২৮ বছর বয়সে আটক হয়েছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় মস্কো অভিমুখী একটি ট্রেনে ভ্রমণের সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। সেই সময় থেকে তিনি রাশিয়ার কারাগারে বন্দি ছিলেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পথে তার সঙ্গে একাধিক চিকিৎসক রয়েছেন এবং তার যত্ন নিচ্ছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, “তিনি ভালো অবস্থায় আছেন বলে মনে হচ্ছে।” অন্যদিকে, সিবিএস নিউজ—যা বিবিসির মার্কিন অংশীদার—জানিয়েছে, গিলম্যানের পরিবার টেক্সাসের একটি সামরিক হাসপাতালে তার পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন এক বিবৃতিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে, কারণ তিনিই আমার ভাইয়ের জীবন রক্ষা করেছেন।” তার দাবি, আজ তার ভাই জীবিত থাকার পেছনে একমাত্র কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই মুক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের পরিসমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও গিলম্যানের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।




