বগুড়া জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলটির বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানকে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ নেওয়ার ঘটনায় মামলায় আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী দাবি করা আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গত রোববার রাতে বগুড়া সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় শওকত ইমরানসহ মোট চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন এবং ৮২ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী আশরাফুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংকের নওগাঁ শাখায় জুনিয়র ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায়। এজাহারে বাদী বর্ণনা করেন, শনিবার দুপুরের দিকে তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ গেটের কাছে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে কিছু টাকা উত্তোলন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছালে শওকত ইমরানসহ আরও চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দুটি মোটরসাইকেলে করে এসে অটোরিকশার পথ আটকান। এরপর তারা জোর করে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রেখে জিম্মি করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতন করে অস্ত্রের মুখে ৮২ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন এবং ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং পরিবারের কাছে আরও ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পাঠালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এই অভিযোগের জবাবে এনসিপি নেতা শওকত ইমরান বলেন, আশরাফুল ইসলাম একজন সাবেক শিবির নেতা। তিনি বিভিন্ন নারীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। তার পরিচিত একজনের কাছ থেকে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার ঘটনায় তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, আশরাফুলের দুটি মুঠোফোন পরীক্ষা করে মেয়েদের নামে আইডি লগিং পাওয়া যায় এবং পরে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২৫ হাজার টাকা তিনি ফেরত দেন। শওকত ইমরান আরও জানান, আশরাফুলের মুঠোফোনে একজন ভুক্তভোগী তরুণের ছবি থাকায় সেগুলো মুছে ফেলার জন্য তিনি ফোন দুটি রেখে দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তার কাছে এই বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে গত ২৩ মার্চ শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে নাহিয়ান ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় নাহিয়ানের বাবা সিরাজুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল বগুড়া নগরের জলেশ্বরীতলা এলাকার এস এম ইমদাদুল হক নামে এক ব্যক্তি শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বাড়ি দখলের অভিযোগ আনেন। দলের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ জানান, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলার বিষয়ে তদন্তের জন্য পার্টি একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শামিম হোসেনকে।