রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বামী। মো. হৃদয় ওরফে শিপন নামের ওই ব্যক্তি আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন। সোমবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন সোহেল আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তা গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

গত ২ আগস্ট রাতে নিহত ফারজানা আক্তার রাত্রির বাবা মো. ফারুক কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই হৃদয়কে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামি নিজে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি বাদীর বাসা থেকে উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে ফারজানার সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় ও পারিবারিক নানা কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলত। গত ২৪ জুলাই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি গেলে ৩০ জুলাই আসামিও দুই বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান। স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের কারণে তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ না করেই ৩১ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। ১ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বাসায় ফেরেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামি রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো সবজি কাটার ছুরি এনে ফারজানাকে হত্যা করেন। এ সময় ফারজানার মা ফিরোজা বেগম মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আসামি তাকেও একই ছুরি দিয়ে গলা, কাঁধ ও হাতে উপর্যুপরি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন সোহেল জানান, আসামি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।