কানাডায় অভিবাসন বা ভিসার আবেদন করতে গিয়ে যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দেয় বা জাল নথি জমা দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (আইআরসিসি)। সম্প্রতি দেশটির অভিবাসন বিভাগ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আবেদনের যেকোনো পর্যায়ে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা জাল তথ্য পাওয়া গেলে নিচের ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হতে পারে—আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশ বা নতুন করে আবেদন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রতারণার স্থায়ী রেকর্ড তৈরি, এবং ইতিমধ্যে কানাডায় অবস্থান করলে তার স্ট্যাটাস বাতিল করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া। পরিস্থিতি গুরুতর হলে ফৌজদারি অপরাধের মামলাও হতে পারে।

আইআরসিসির মতে, যেসব নথি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা বেশি ঘটে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি, ভিসা, ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি, ট্রেড বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সনদ, জন্ম, বিয়ে, তালাক ও মৃত্যুসনদ, এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। আবেদনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করাও একই অপরাধের আওতায় পড়ে। কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে জানিয়েছে, আবেদনের ফরম পূরণ বা জমা দেওয়ার কাজ অন্য কোনো প্রতিনিধি (এজেন্ট বা কনসালট্যান্ট) করলেও সব তথ্যের দায়ভার আবেদনকারীকেই নিতে হবে। ভুল তথ্যের দায় তৃতীয় পক্ষের ওপর চাপিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন (আইআরপিএ) অনুযায়ী, পাসপোর্ট, ভিসা, শিক্ষাগত সনদের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্রে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি বা পরিবর্তন ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশন’ বা মিথ্যা উপস্থাপন হিসেবে গণ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা কানাডায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কোনো প্রলোভনে পা না দিয়ে এবং অসাধু এজেন্টের পরামর্শ এড়িয়ে নিজের আবেদনের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কানাডা সরকারের নির্ধারিত লিঙ্কে ভিজিট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।