গাজার উত্তরাঞ্চল জাবালিয়ায় ব্যস্ত একটি বাজারের নিকটবর্তী পুলিশ চৌকিতে ইসরায়েলি বাহিনীর মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামাস নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই হামলায় অন্তত সাত জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ওই থানার প্রধান কর্নেল মোহাম্মদ মারওয়ান সালেমও রয়েছেন। হামাসের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে 'হত্যাকাণ্ড' বলে নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা 'সন্ত্রাসীদের' লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, হামলার সময় বাজার এলাকায় প্রচুর লোক ছিল এবং বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিন দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও দুই ব্যক্তির প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনুস এলাকায় একটি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে তারা এক হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে মুআতাজ আবু শার নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত ১ হাজার ১১০ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি হামলায় তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে এক নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।