চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. রায়হান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন রেখেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এই পোস্টটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রায়হান দীর্ঘদিন ধরে যে অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করছেন, সেটি থেকেই এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
পোস্টে রায়হান নোয়াখালীর রংমালা এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, তারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরপর তিনি এসপি মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, 'দোজখ আর জাহান্নামে তফাত কী মাসুদ স্যার?' তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিপদের মুহূর্তে ভালো-মন্দ সব শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশা থাকে এবং তিনি নোয়াখালী থেকে সেই সহযোগিতা পেয়েছেন। এছাড়া 'সুযোগ পেলেই ভালো হয়ে যাব' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাতে নোয়াখালী ও যশোরে পুলিশ পৃথক অভিযান চালায় সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ও মো. রায়হানকে গ্রেপ্তারের জন্য। ওই অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও রায়হান নোয়াখালীর একটি বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রায়হান বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
এর আগে, ইমনকে গ্রেপ্তারের পরের দিন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছিলেন, 'আমরা রায়হানকে প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম। রায়হান কোনোভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও দোজখ দেখে ফেলেছে।' এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার রায়হান তাঁর ফেসবুক পোস্টে ওই প্রশ্নটি তোলেন।
সোমবার রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলার দুই অস্ত্রধারী আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা রায়হান পালানোর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, 'আমরা তাঁকে ধরতে ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম। হতে পারে কেউ তাঁকে পালিয়ে যেতে কিংবা লুকাতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেটা তো আমরা বলতে পারব না।' রায়হানের পোস্টে নোয়াখালীর বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানোর প্রসঙ্গে এসপি বলেন, 'পুরো নোয়াখালীবাসী তো আর তাকে সাহায্য করেনি। হতে পারে গুটিকয়েক লোক তাকে জেনে বা না জেনে সাহায্য করেছে।' তিনি আরও জানান, রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়হানের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় এক বছরের মধ্যে হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে এবং তিনি দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।



