চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় কর্মরত উপপরিদর্শকদের (এসআই) বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় যুবদলের এক শীর্ষ নেতা। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা কমপ্লেক্সের কবি আব্দুল হাকিম মিলনায়তনে। ওই যুবদল নেতা হলেন সন্দ্বীপ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান। ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজকে থানা আপনাদের (বিএনপির নেতা-কর্মীদের) কথা শোনে না। পুরো সন্দ্বীপ থানা মাদকের সঙ্গে জড়িত হয়ে গেছে। সন্দ্বীপের ১২ জন এসআই সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’ সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নিঝুম খান আরও বলেন, ‘আজকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি। কিন্তু আমি যদি মাদকের ব্যবসা করি, আমি যদি সন্ত্রাস লালন করি, তাহলে মাদক বন্ধ করব কীভাবে? আজকে আমাদের বিএনপির অনেক ভালো ছেলেপেলে মাদকে জড়িয়ে যাচ্ছে।’ আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোছাইন। নিঝুম খানের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিঝুম খান একজন দায়িত্বশীল ছেলে। হতে পারে সে মাদক নির্মূলে থানার সব এসআইয়ের প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার কথা বলতে চেয়েছেন।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘সন্দ্বীপ থানায় বর্তমানে এসআই আছে আটজন। ১২ জন এসআই থানায় নেই। এ বিষয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’ নিঝুম খান প্রথম আলোকে এ বিষয়ে বলেন, ‘সন্দ্বীপ থানায় ১২ জন উপপরিদর্শক হয়তো এ মুহূর্তে কর্মরত নেই। তবে আমি বলতে চেয়েছি, ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ছাড়া সবাই মাদক বিস্তারে জড়িত। পুরো সন্দ্বীপ মাদকের করাল গ্রাসে পর্যুদস্ত। এর বিরুদ্ধে সবাইকে আওয়াজ তুলতে হবে। সন্দ্বীপে থেকে কেন মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।’
সন্দ্বীপ থানার ১২ এসআই মাদক ব্যবসায় জড়িত, যুবদল নেতার ভিডিও ভাইরাল
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার উপপরিদর্শকদের (এসআই) বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ এনে বক্তব্য দিয়েছেন যুবদল নেতা নিঝুম খান। তাঁর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। থানা ওসি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।




