ছোটবেলা থেকেই নখ কাটার অভ্যাস আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে, কিন্তু এই দৈনন্দিন কাজটি সঠিক পদ্ধতিতে করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আমরা খুব কমই ভাবি। অনেকেই পায়ের নখ গোল করে কাটাকে স্বাভাবিক মনে করেন, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিই হতে পারে নানা যন্ত্রণার মূল কারণ। নখের দুই পাশ অতিরিক্ত গোল করে বা গভীরভাবে কাটলে সেটি বাড়ার সময় পাশের চামড়ার ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। এর ফলে ব্যথা, লালচে ভাব, ফোলাভাব এবং সংক্রমণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় 'ইনগ্রোন টোনেইল'।

নখ কাটার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পায়ের নখ সোজা বরাবর কাটা। নখের কোনাগুলো বেশি ছোট করা যাবে না। পায়ের আঙুলের ডগা সুরক্ষিত থাকবে, এমন দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে হবে। হাতের নখের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন — সেখানে কোনায় সামান্য গোল করা যেতে পারে, তবে পায়ের নখের মতো গভীরভাবে কাটা উচিত নয়। হাতের নখের কোণ পুরোপুরি গোল করার প্রয়োজনও নেই, আবার একেবারে ধারালো রাখাও ঠিক নয়। লক্ষ্য হলো নখের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা এবং অসমান অংশগুলো মসৃণ করা।

নখ কাটার যন্ত্র পরিষ্কার রাখাও অত্যন্ত জরুরি। ব্যবহারের আগে নেইল ক্লিপার বা নেইল কাটার পরিষ্কার আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। হাত ও পায়ের জন্য আলাদা যন্ত্র ব্যবহার করলে ভালো হয়। ব্যবহারের পর ক্লিপারটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রাখলে জীবাণু জমার ঝুঁকি কমে। গোসলের পর নখ কাটা সহজ, কারণ তখন নখ কিছুটা নরম থাকে। গোসলের সুযোগ না থাকলে কয়েক মিনিট কুসুম গরম পানিতে হাত-পা ভিজিয়ে নিতে পারেন। তবে নখ ভেজানোর পর অতিরিক্ত পানি মুছে নেওয়া জরুরি, নতুবা পিচ্ছিল অবস্থায় হাত ফসকে গিয়ে সমস্যা হতে পারে।

নখ কাটা হয়ে গেলে ধারালো বা খসখসে অংশগুলো নেইল ফাইল দিয়ে মসৃণ করা উচিত। ফাইল একদিকে চালিয়ে ধীরে ধীরে মসৃণ করলে নখের কিনারা দুর্বল হয় না। খুব জোরে সামনে-পেছনে ঘষলে নখের প্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নখের গোড়ার পাতলা চামড়া কিউটিকল কেটে ফেলা বা জোর করে পেছনে ঠেলে দেওয়াও ঠিক নয়। কিউটিকল নখের গোড়াকে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি কাটতে গিয়ে ছোট ক্ষত তৈরি হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নখ কাটার পর হাত ও নখের আশপাশে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক থাকে না এবং নখ ভালো থাকে। বিশেষ করে যাদের নখ সহজে ভেঙে যায় বা চারপাশের চামড়া খসখসে, তাদের জন্য নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার উপকারী।

ভুলভাবে নখ কাটার সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হলো ইনগ্রোন টোনেইল। এই সমস্যায় নখের এক পাশ বা কোনা চামড়ার ভেতরে ঢুকে যায়। ফলে ব্যথা, ফোলা ও লালচে ভাব দেখা দেয়। সংক্রমণ হলে পুঁজও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে থেকে নখের কোনা কেটে বের করার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। সামান্য নিয়ম মেনে চললেই নখের নানা জটিলতা এড়ানো যায় — পায়ের নখ সোজা করে কাটা এবং হাতের নখ প্রায় সোজা রেখে কোণাগুলো সামান্য মসৃণ করাই যথেষ্ট।