খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার আমতলা নদীতে বৃহৎ পরিসরে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগ ও বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নদীর ১৬টি স্থান থেকে প্রায় ১৫ হাজার মিটার নেটপাটা ও চায়না দুয়ারি জাল সরিয়ে ফেলা হয়। জব্দ করা বাঁশের খুঁটি ও জাল পরে পাশের ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে নিয়ে ধ্বংস করা হয়।

এর আগে গত শনিবার প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘এক লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে এই নদী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়, ২০২৩ সালে খুলনা জেলা প্রশাসন আমতলা নদীকে ৬০ একর আয়তনের বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে গঙ্গারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে বার্ষিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় ছয় বছরের জন্য ইজারা দেয়। এরপর নদীর বিভিন্ন অংশে নেটপাটা বসিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর ফলে কৃষিকাজ, পানিনিষ্কাশন, মাছ ধরা এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরই প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থান্দার কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নেটপাটা অপসারণ করেছি। এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই পরিচালনা করা হয়। এবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাও ছিল।’ বটিয়াঘাটা উপজেলার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান জানান, সব মিলিয়ে জালের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিটার। পুরো খালের প্রায় ১৬টি স্থান থেকে নেটপাটা অপসারণ করা হয়েছে। পরে পাশের ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে সেগুলো বিনষ্ট করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু নেটপাটা অপসারণকেই যথেষ্ট মনে করছেন না। বটিয়াঘাটা নদী-খাল রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিভাস মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম নদীটি উন্মুক্ত হোক। এই অভিযান সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি শুভ সূচনা। তবে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটির আরও কয়েকটি স্থানে নেটপাটা রয়েছে। সেগুলোও অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোথাও নেটপাটা বসানো না হয়, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’ বিভাস মণ্ডল আরও বলেন, শুধু নেটপাটা অপসারণ করলেই হবে না, নদীর বিতর্কিত ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিল করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সাধারণ মানুষের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আমতলা নদীকে উন্মুক্ত জলমহাল হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নদীর বিতর্কিত ইজারা বাতিল এবং আমতলা নদীকে উন্মুক্ত রাখার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের এ অভিযানকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাঁদের দাবি, শুধু নেটপাটা অপসারণ নয়, নদীর বিতর্কিত ইজারা বাতিল করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সাধারণ মানুষের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।