বরিশালে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় আহত ব্যক্তিদের কোনো সহায়তা না করার অভিযোগ তুলে তাঁর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। রোববার দুপুরে সচেতন নাগরিক কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম। এতে বলা হয়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করে পদায়ন করা হলো। একই আদেশে পূর্ববর্তী সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনিরুজ্জামান আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াননি। ৫ আগস্টের পর আহত ও নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা পালন করেননি বলে দাবি করেন তারা। আরও অভিযোগ, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর অনুসারী হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানান বিক্ষোভকারীরা। এ বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বি এম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান তিনি। আরেক শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

পদায়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। এরপরও দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জন মো. মনিরুজ্জামান জানান, ২১ জুলাই তাঁকে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২৩ জুলাই তিনি যোগদান করেন। তবে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে ৫ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ পান সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন। ৬ জুলাই যোগদানের পর থেকেই তাঁকে জুলাইবিরোধী ও ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে আন্দোলন শুরু করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব এবং মেডিকেল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা তাঁকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ১২ জুলাই তাঁর পদায়ন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এখনও বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদে কাউকে নতুন করে পদায়ন করা হয়নি।