কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় হাওরের প্রবল স্রোতে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। শুক্রবার দুপুরে হাসানপুর সেতুসংলগ্ন এলাকায় পানিতে নামলে তলিয়ে যান মো. বাছির উদ্দিন। স্ত্রী-সন্তানদের চোখের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতের মেজ মেয়ে সেমন্তী আক্তার জানায়, বাবা তাকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদে তীরে তুলে দিলেও নিজে আর উঠতে পারেননি। পরনের ওড়না বেঁধে ফেললেও স্রোতের কারণে তা ধরতে পারেননি তিনি। সেমন্তী কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘যদি জানতাম বাবা হারিয়ে যাবে, তাহলে কখনো পানিতে নামতাম না।’ ঘটনার দিন সকালে পরিবারের ১০ জন সদস্য মিঠামইন হাওরে বেড়াতে যান। জিরো পয়েন্টে ঘোরার পর ফেরার পথে কয়েকজন পানিতে নামেন। বাছিরের ছোট বোন শিমুলা আক্তার বলেন, চোখের পলকে ভাই তলিয়ে যায়। সকালে হাসিখুশি বেরিয়ে সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত বাছিরের বাবা মো. আবু বাক্কার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি বলেন, ছেলে বেড়াতে যাওয়ার আগে ফোন করেছিল, এটাই শেষ কথা। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ—এখন তা বুঝতে পারছেন। বাছিরের স্ত্রী শারমিন আক্তার ও দুই বড় মেয়ে শোকে প্রায় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, তিন মেয়ের লেখাপড়া ও ব্যাংকের ঋণ কীভাবে পরিশোধ হবে। শিমুলা আক্তার সকলের কাছে সহায়তার আবেদন জানান। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। পিতা-মাতার কাছে সন্তানের মূল্যই সবচেয়ে বেশি। প্রশাসন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।